Subtitles

সন্তান এর জীবনে মায়ের অবদান হয়তো ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব – EMSubtitle

ছোট্ট একটা মিষ্টি শব্দ”মা”। কিন্তু এই শব্দটা যতই ছোট হোক না কেন, সন্তান এর জীবনে এই মায়ের অবদান হয়তো ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। আবার সন্তান পেটে না ধরেও যে মা তার সবটুকু উজাড় করে দিয়ে তিলতিল করে সন্তান কে পালন করেন, বড় করে তোলেন, সেই মায়ের গুরুত্বও কিন্তু জন্মদাত্রী মায়ের থেকে কোনও অংশে বেশি ছাড়া কম নয়। আজকের এই নারী দিবসে সেইসব মায়েদের প্রতি, সেইসব নারীদের প্রতি আমি আমার হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা জানাই। কী??

এই মুভির পোস্টার দেখে ভাবছেন ত যে এটা হয়তোবা চরম রোমান্টিক একটা মুভি? এই ভুল আমিও করেছিলাম। এটা কোনও রোমান্টিক মুভি না। এক মা আর ছেলের গল্প!!! মায়ের কোনও জাত হয় না, স্থান কাল পাত্র বয়স কোনো কিছুই কোনো সীমা নয় মাতৃত্বের কাছে। মা তো মা ই হয়। সন্তান যত বড় ই হোক না কেন, মায়ের কাছে সে সবসময়ই শিশু। হ্যাঁ, এমনই একটা গল্প নিয়ে ই এই মুভিটা।

মানুষের পৃথিবী থেকে অনেক অনেক দূরে কোনও এক সুন্দর জায়গায় বাস করে একদল Iorph (ইয়র্ফ) যারা দিনযাপন করে তাঁতকলে “হিবিয়াল” নামের এক অদ্ভুত সুন্দর কাপড় বুনে। এই হিবিয়ালের বুননের মধ্যেই তারা তাদের ইতিহাস লিখে রাখে যেগুলো পড়ার সাধ্য সাধারণ মানুষের নেই।

ইয়র্ফ দের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে

এদের সবারই সোনালি চুল, লালচে চোখ, সাধারণ মানুষের থেকে গায়ের তাপমাত্রা অনেক কম, এদের সারাজীবন অল্পবয়সী কিশোর-কিশোরীদের মতোই দেখতে লাগে সে যতই এদের বয়স বাড়ুক না কেন। আর সবথেকে অবাক করার বিষয় হলো এরা মানুষের তুলনায় শত শত বছর বেশি বাঁচে।

এমনই এক অনাথ পনেরো বছর বয়সী ইয়র্ফ মেয়ে Maquia (মাকিয়া)। সবার মাঝে থেকেও যেন সে একা। ইয়র্ফদের নেত্রী Racine (রেসিন) সবসময় মাকিয়াকে সতর্ক করেন বাইরের কারোর সাথে emotional relationshipএ না জড়াতে। এভাবেই মনের মধ্যে শূন্যতা নিয়ে আর তাঁত বুনেই মাকিয়ার দিন কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু একদিন ঘটে গেল মহা বিপর্যয়।

লোভী Mezarte(মেযার্টে) নগরের সেনাবাহিনীরা বিশাল বড় Renato (রেনাটো) ড্রাগনদের সাথে নিয়ে ইয়র্ফদের সুন্দর পল্লিতে হানা দিল। কিন্তু হঠাত্ একটা ড্রাগনের চোখ লাল হয়ে যায় আর যন্ত্রণায় দিশেহারা হয়ে সে ইয়র্ফদের টাওয়ার ধ্বংস করে দেয়। তখন সেই টাওয়ারে সংরক্ষিত অধিকাংশ হিবিয়াল ঐ ড্রাগনের গায়ে পেঁচিয়ে যায়। মাকিয়া নিজের জীবন বাঁচাতে সেই হিবিয়ালের সাহায্যে ড্রাগনের সাথে আটকে পড়ে আর একসময় একটা জঙ্গলে এসে থামে।

দূরে আগুনের শিখা দেখে সে বুঝতে পারে যে ইয়র্ফদের অস্তিত্ব শেষ। মনের কষ্টে সে যখনই আত্মহত্যা করতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে ই তার কানে ভেসে আসে এক বাচ্চার কান্না। কান্নার শব্দ শুনে এগিয়ে যেতেই দেখে এক মহিলার লাশের মধ্যে একটা ফুটফুটে বাচ্চা। বাচ্চাটাকে দেখে রেসিন এর সতর্কবাণী উপেক্ষা করে মাকিয়া পরম মমতায় তাকে কোলে তুলে নিল আর তার নাম দিল Ariel (এরিয়েল)।

এদিকে মেযার্টের সেনারা ইয়র্ফদের রাজকুমারী লেইলিয়া কে অপহরণ করে। কি হবে এবার? লেইলিয়াকে কি কখনও উদ্ধার করতে পারবে মাকিয়া? এরিয়েল ত সাধারণ মানুষ, মাকিয়া একজন ইয়র্ফ; সন্তান কে মানুষ করতে গিয়ে জীবনের কোন লড়াইয়ে তাকে নামতে হবে? কোনটা জিতবে? মায়ের মমতা? নাকি ক্ষমতালোভীদের চক্রান্ত?

জানতে হলে যে মুভিটা দেখতেই হবে

যারা wolf children মুভি দেখেছেন তারা হয়তো Hana কে সেরা মা হিসেবে দেখেছেন। কিন্তু সেই বিচারে আমি মাকিয়া কে হানা’র থেকে আগে এগিয়ে রাখবো।

Movie name : “Maquia: When the Promised Flower Blooms” (“さよならの朝に約束の花をかざろう” Sayonara no Asa ni Yakusoku no Hana o Kazarō যার অর্থ করলে দাঁড়ায় Let’s Decorate the Promised Flowers in the Morning of Farewells)
Rotten Tomato rating : 💯
IMDB rating : 7 4
Personal rating : ❤
Genre : Animation, Adventure, Family, Fantasy
Year : 2018
Country : Japan
Language : English, Japanese
Runtime : 115 minutes
Director & Writer : Mari Okada

যখনই আমি এই মুভিটার রোটেন টমেটো রেটিং দেখলাম, আমি ত ভীষণ ই অবাক হয়েছি যে কী এমন আছে এই অ্যানিমে মুভিতে যে রোটেন টমেটো পর্যন্ত 100 তে 100 দেয়? যখন মুভিটা দেখে সারলাম আমি যে কতক্ষণ কেঁদেছি নিজেও জানি না। আসলে সত্যিই মুভিটা 100 তে 100 পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। অন্য সব মুভিতে আমি হয়তো numerically রেটিং দেই, কিন্তু এই মুভিটাকে সংখ্যায় রেটিং দেওয়ার মতো সাধ্য আমার নেই। আশা করি, আপনাদেরও মুভিটা ভালো লাগবে।
Happy watching 😊😊

Source link